নতুন বই

March 11, 2020

পাণ্ডুলিপির এক টুকরো, ছবি – এনামুল রেজা

নতুন উপন্যাসের কাজ শেষের পথে। তিন বছর কীভাবে কেটে গেছে, আর আমার প্রথম উপন্যাস প্রকাশের পাঁচ বছর! তিন আর পাঁচ দুটিই প্রাইম নম্বর।

Books choose their authors; the act of creation is not entirely a rational and conscious one.
– Salman Rushdie


September 10, 2018

নতুন উপন্যাস নিয়ে আমার পরিকল্পনা ছিল যে তিনটি পর্বে ভাগ করে আখ্যান সাজাবো। এ বছরের জানুয়ারির শেষাশেষি শুরু করেছিলাম। আনুমানিক নব্বই হাজার শব্দ, এরকম পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে টানা লিখে গেলে ফার্স্ট ড্রাফট নামতে তিন থেকে চার মাসের বেশি সময় লাগবার কথা না।

কিন্তু সেই সুযোগ কোথায়, টানা লিখে যাবার অবসরই বা কই? চাকরি করতে হয়, তা ছেড়ে দেবার মত সুযোগ পারিবারিক কারণেই অসম্ভব। তবু তো লিখতে হবে। আমি টুকটুক করেই লিখতে শুরু করেছিলাম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল দিনের পর দিন লিখতে না পারবার ক্লেশ। কখনও একমাসে ছয় হাজার শব্দ লিখেছি, কোন মাসে দু’হাজার তো দু’মাস পাণ্ডুলিপিতে হাতও দিতে ইচ্ছে করেনি।

এভাবে একটা সময় দেখলাম, প্রথম পর্বের কাজ আমি শেষ করেছি প্রায় আট মাস লাগিয়ে। চরিত্রগুলো যখন তাদের রক্ত-মাংস ও উদ্দেশ্যহীনতা সম্পর্কে কিছুটা সচেতন, ক্যালেন্ডারের পাতায় নেমেছে ধুসর সেপ্টেম্বর। আজ মনে হচ্ছে, উপন্যাসটা আমি শেষ করতে পারব। প্রথম পর্ব, সেটি তো শেষ হল। এখন শুধু যা করতে হবে, উপন্যাসটিকে ছেড়ে দিতে হবে ওর নিজের হাতে।

অক্টোবর আর নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফার্স্ট ড্রাফট কি নামবে? জানিনা। স্মরণ করছি, কোলাহলে নামের ছোট্ট বইটির কথা, যা আমি লিখেছিলাম প্রথম তারুণ্যের এক হতভাগা গ্রীষ্মের অখন্ড অবসরে। তাই যদি হয়, নতুন এই উপন্যাসে আমার প্রস্তুতি প্রায় আট বছরের। তাতে কী বা আসে যায়। সারা জীবন ধরেও তো কত লেখক একটিমাত্র বই লিখতে পারেন।

error: লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন