দ্যা সিমপ্যাথাইজার ও আধুনিক যুদ্ধ-উপন্যাসের দাবি

দ্যা সিমপ্যাথাইজার যুদ্ধজাত উপন্যাস। ভিয়েতনামিজ-আমেরিকান উপন্যাসিক ভিয়েত থান নুইয়েনের এ আখ্যান ভিয়েতনাম যুদ্ধকে নিয়েছে পটভূমি হিসেবে, আখ্যানের মূল চরিত্র একজন গুপ্তচর। ইতিহাসের পাঠ ও আমাদের বিবেচনাকে বইটা বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কীভাবে, তা নিয়েই এই আলাপ। ভিয়েতনাম যুদ্ধের উপর কোন উপন্যাস পড়তে হলে এ বিষয়ে সামান্য ধারণা রাখা জরুরি। আমি বিস্তারিত

প্যানডেমিকের প্রথম ধাক্কা, ডাল্টনের বন্ড ও অন্ধত্বের সারামাগো

কোন ধরণের ভারি কথা বা চিন্তা মাথায় আসছেনা। গতকাল রাত জেগে বন্ড এক্টর টিমোথি ডাল্টনকে নিয়ে পড়লাম। যৌবনে এই লোক অসম্ভব সুদর্শন ছিলেন। শন কনোরি বন্ড হিসেবে অবসর নেবার পর তাকেই প্রথম এপ্রোচ করেছিল প্রডিউসাররা। ডাল্টন বলেছিলেন, ‘কোন বিখ্যাত রোলে রিপ্লেসমেন্ট ভাল আইডিয়া, কিন্তু পূর্বসূরি যদি হয় কনোরির মত কেউ,

আমাদের সময়ে শিল্প-সাহিত্যের কী প্রয়োজন

১ হেমন্তের এক মেঘলা সকালে প্রশ্নটির মুখোমুখি হই আমি। যখন এ মহানগরে লোকজনের ছুটবার কথা যার যার কর্মস্থলে। তারা ছুটছেও। জানালার নিচে পথের ধার ঘেঁষে বসেছে অস্থায়ী কাঁচাবাজার। ভেসে আসছে মানুষ ও যানবাহনের শোরগোল। এমন সকাল শুধুমাত্র হেমন্তের কারণেই গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষার চেয়ে ভিন্ন। আবহাওয়ার পরিবর্তন ছাড়া আর কী নতুনত্ব

বোর্হেসের স্বপ্নবাঘেরা ও লা কামপারসিতা

আর্জেন্টাইন কথাশিল্পী ও কবি হোর্হে লুইস বোর্হেস। El Hacedor (স্রষ্টা) নামের বইটি যখন প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে (যা এখন Dreamtigers নামে পরিচিত), তিনি তখন পুরোপুরি অন্ধ। বইটির লেখাগুলো বিচিত্র। কারণ এগুলো কবিতা, গদ্য স্কেচ ও গল্পের মাঝখানে থাকা সব সীমারেখা যেন মুছে দিতে চেয়েছে। লেখক নিজে বলেছিলেন, এ বইটি তার

সেই এক পদচারি সেতু

প্রাইম মিনিস্টারের ফুলবাগানকে পাশ কাটিয়ে সেই হাইওয়েটা গিয়ে মিশেছিল বইবাগানে। শিশুদের অসুখ হলে বড়রা ওদের যে হাসপাতালে এনে ভর্তি করাতো, হাইওয়েটির এক পাশে ছিল সেই আরোগ্য নিকেতন। খুব ব্যস্ত সড়ক। প্রচুর গাড়ি হেঁকে যেত, ভারি ও হালকা। রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটতো। শিশুকে ভর্তি করতে এসে বাবা-মা মরতো,

খেলারামকে যেভাবে খেলে যেতে দেখি

একজন নারীলিপ্সু পুরুষ, যে পছন্দ করে কেবল উঠতি বয়সি তরুণীদের। প্রেম বলতে যে বোঝে শুধুই শরীর, এজন্য সে নিত্যই একটা বদলের চেইনে দিন পার করে। এক নারী থেকে আরেক নারীতে ভ্রমণটাকে তার মনে হয় প্রকৃত জীবন। মোটাদাগে এই হল সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা’র কাহিনী। কিন্তু উপন্যাসের যে খেলাটা,

সত্যজিৎকে কয়েক লাইন

সেই এক বর্ষার মৌসুম। দিবানিশি সব সময়েই জল ঝরছে। চারদিক দিনের বেলাতেও সন্ধ্যা হয়ে থাকে। কখনও বা নামে মুষলধারা। মেঘের তীব্র ডাকে হঠাৎ চমকে উঠতে হয়। এক দুপুরে বারান্দায় বসে আছি। অদূরে রান্নাঘর। দরজা খোলা। দেখতে পাচ্ছি খুব ধোঁয়া উঠছে। আম্মা আছেন যন্ত্রণায়। ভিজে কাঠে রান্না। বাঁশের চোঙে ফুঁ দিয়ে

তারাশঙ্করের চৈতালী-ঘূর্ণি পাঠের শেষে

বাস্তবতা সত্যকে অস্পষ্ট করে, গল্পে সত্য স্পষ্ট হয়। রালফ ওয়াল্ডো এমারসন এ উপন্যাস দারিদ্র্যের লাঠিপেটায় আহত কিংবা নিহত মানুষদের নিয়ে। দেশভাগের গরম হাওয়া বইতে শুরু করেছে যখন ভারতবর্ষের হাটে-ঘাটে-মাঠে—সে সময়কার আঁচ, স্বাধীনতা এলো কী এলোনা তার আলাদা গুরুত্ব যে দেশের অতি সাধারণ, হতদরিদ্র মানুষগুলোর জীবনে তেমন নেই, চৈতালী-ঘূর্ণি সে গল্পই

error: লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন