পাঁচটি অসময়ের গল্প

ধবলগাঁওয়ের লোকজন সন্ধ্যায় ওরা এলো একটা ট্রলারে চড়ে। মানুষে বোঝাই। তাদের মাঝখানে ত্রাণের ছোট ছোট ব্যাগের স্তুপ। চারদিক পাথার হয়ে আছে। যেদিকে তাকাও জল। ধবলগাঁওয়ের লোকজন বসে আছে গাছের মগডালে, বাড়ির ছাদে। কয়েকদিন ধরে মাইকিং করা হচ্ছিল সবাই যেন উপজেলা সদরে যায়। সেখানে জল ওঠেনি, ত্রাণ দেওয়া হবে। কেউই যেতে

হাসপাতালে

আমার পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। এইখানে, মাঝারি আকৃতির এ রুমটায় ঘুমাই, ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি অথচ জাগবার পর মনে পড়েনা। স্বপ্ন দেখা হয়েছে, অস্বস্তিকর, ভয়ানক কিছু স্বপ্ন—এটুকু খেয়াল হয় শুধু। দিনমান এদের কথা ভেবে কিংবা স্মরণের বৃথা চেষ্টায় মগজে বেদনা জন্মায়, সে বেদনার তোড়ে চারপাশে আর তাকানো হয়না গভীর মনযোগে।

ডায়নোসরের পিঠ

The real voyage of discovery consists not in seeking new landscapes, but in having new eyes. – The Prisoner, Marcel Proust এ সে পৃথিবী নয় এতদিন যাহাকে জানিতাম, এ স্বপ্নভূমি, এই দিগন্তব্যাপী জ্যোৎস্নায় অপার্থিব জীবেরা এখানে নামে গভীর রাত্রে, তারা তপস্যার বস্তু, কল্পনা ও স্বপ্নের বস্তু, বনের ফুল যারা ভালবাসে

লস্কর মিয়ার জামাই

লস্কর মিয়া তার লুঙ্গি কাছা মারল। যে কোন সময় হয়ত ছুট দেয়া লাগবে। বাঁদরটার মতিগতি খারাপ। শুরু থেকেই দাঁত খিঁচানি দিচ্ছে। তৈয়বের এই বাঁদর সন্ত্রাসীদের মত আচরণ করে। আগেরবার সে যখন এসেছিল, বাঁদর তাকে ঘরেই ঢুকতে দেয়নি। দূর থেকে কয়েকবার ডেকে তৈয়বের সাড়া না পেয়ে ফিরে গিয়েছিল সে। প্রথমে সে

সেই এক পদচারি সেতু

প্রাইম মিনিস্টারের ফুলবাগানকে পাশ কাটিয়ে সেই হাইওয়েটা গিয়ে মিশেছিল বইবাগানে। শিশুদের অসুখ হলে বড়রা ওদের যে হাসপাতালে এনে ভর্তি করাতো, হাইওয়েটির এক পাশে ছিল সেই আরোগ্য নিকেতন। খুব ব্যস্ত সড়ক। প্রচুর গাড়ি হেঁকে যেত, ভারি ও হালকা। রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটতো। শিশুকে ভর্তি করতে এসে বাবা-মা মরতো,

আয়না ভ্রমণ

আমরা সবাই ব্যাপারটা মেনে নিলাম একবাক্যে। প্রথমে ঘাটে জড়ো হওয়া লোকজন। এরপরে নদী তীরে গরমে পুড়তে থাকা থাকা গাছপালা। ক্ষমাহীন উত্তপ্ত বাতাসের একটা ঝড়ও কয়েক মুহূর্তের জন্য হাজির হল আমাদের ঐক্যমত জানাতে – পৃথিবীতে আজকের মত দীর্ঘ দুপুর এর আগে কখনও আসেনি। এমন এক দুপুরে আমরা দেখতে পেলাম আবু রায়হান

error: লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন