সেই এক পদচারি সেতু

প্রাইম মিনিস্টারের ফুলবাগানকে পাশ কাটিয়ে সেই হাইওয়েটা গিয়ে মিশেছিল বইবাগানে। শিশুদের অসুখ হলে বড়রা ওদের যে হাসপাতালে এনে ভর্তি করাতো, হাইওয়েটির এক পাশে ছিল সেই আরোগ্য নিকেতন। খুব ব্যস্ত সড়ক। প্রচুর গাড়ি হেঁকে যেত, ভারি ও হালকা। রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটতো। শিশুকে ভর্তি করতে এসে বাবা-মা মরতো,

খেলারামকে যেভাবে খেলে যেতে দেখি

একজন নারীলিপ্সু পুরুষ, যে পছন্দ করে কেবল উঠতি বয়সি তরুণীদের। প্রেম বলতে যে বোঝে শুধুই শরীর, এজন্য সে নিত্যই একটা বদলের চেইনে দিন পার করে। এক নারী থেকে আরেক নারীতে ভ্রমণটাকে তার মনে হয় প্রকৃত জীবন। মোটাদাগে এই হল সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা’র কাহিনী। কিন্তু উপন্যাসের যে খেলাটা,

সত্যজিৎকে কয়েক লাইন

সেই এক বর্ষার মৌসুম। দিবানিশি সব সময়েই জল ঝরছে। চারদিক দিনের বেলাতেও সন্ধ্যা হয়ে থাকে। কখনও বা নামে মুষলধারা। মেঘের তীব্র ডাকে হঠাৎ চমকে উঠতে হয়। এক দুপুরে বারান্দায় বসে আছি। অদূরে রান্নাঘর। দরজা খোলা। দেখতে পাচ্ছি খুব ধোঁয়া উঠছে। আম্মা আছেন যন্ত্রণায়। ভিজে কাঠে রান্না। বাঁশের চোঙে ফুঁ দিয়ে

তারাশঙ্করের চৈতালী-ঘূর্ণি পাঠের শেষে

বাস্তবতা সত্যকে অস্পষ্ট করে, গল্পে সত্য স্পষ্ট হয়। রালফ ওয়াল্ডো এমারসন এ উপন্যাস দারিদ্র্যের লাঠিপেটায় আহত কিংবা নিহত মানুষদের নিয়ে। দেশভাগের গরম হাওয়া বইতে শুরু করেছে যখন ভারতবর্ষের হাটে-ঘাটে-মাঠে—সে সময়কার আঁচ, স্বাধীনতা এলো কী এলোনা তার আলাদা গুরুত্ব যে দেশের অতি সাধারণ, হতদরিদ্র মানুষগুলোর জীবনে তেমন নেই, চৈতালী-ঘূর্ণি সে গল্পই

রূপান্তরের জানালা থেকে কাফকার জীবন

লেখাটি পুরনো। মহামারীর এই বন্দি দিবস-রজনীতে মনে হল আবার পড়া যেতে পারে। দেখবেন যে এই আলাপের বিষয়বস্তু আমাদের বর্তমান যাপনের সঙ্গে কেমন প্রাসঙ্গিক। সম্পাদনা বলতে কিছু অংশ বাহুল্য মনে হওয়ায় ছেঁটে ফেলেছি। চেষ্টা করেছি বানানগুলো ঠিক করতে। আপনারা এই লেখার সঙ্গে সঙ্গে “রূপান্তর” পড়ে নিতে পারেন আরও একবার। গল্পের চেয়ে

জাদুবৃক্ষের রস

যতদূর জানি, টিকে থাকে শুধু নারী এবং গল্প।— ভার্জিনিয়া উলফ নারীটি হারিয়ে যায়, ফাতেমা। একদিন হঠাৎ চলমান সংসার ও সন্তান, বসত-ভিটে থেকে ফাতেমা নিখোঁজ হলে দেখতে পাই তার পুরুষ আকালু সুহাসিনী গ্রামে ফিরে আসছে। আকালুকে ফিরতে দেখা যায় ফাতেমার বাপের অর্থাৎ নিজের শশুর বাড়ি থেকে। নারীটি যে হারিয়ে গিয়েছে, নিজের

সাহিত্যের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটা ভাষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক ● সালমান রুশদি

রুশদি এই সাক্ষাৎকারটা দিয়েছিলেন ২০১৩ সালে, সাংবাদিক ও প্রকাশক শন র‍্যানডলকে। তখন এপ্রিল, নিউ ইয়র্কের কোন এক বহুতল ভবনের অডিটোরিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে এই বৃটিশ-ইন্ডিয়ান উপন্যাসিকের নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন পেন ওয়ার্ল্ড ভয়েসেসের বাৎসরিক উৎসব।  আলাপটিতে ঘুরে ফিরে এসেছে লেখক ও সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের অধিকার, স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় লেখকের

আয়না ভ্রমণ

আমরা সবাই ব্যাপারটা মেনে নিলাম একবাক্যে। প্রথমে ঘাটে জড়ো হওয়া লোকজন। এরপরে নদী তীরে গরমে পুড়তে থাকা থাকা গাছপালা। ক্ষমাহীন উত্তপ্ত বাতাসের একটা ঝড়ও কয়েক মুহূর্তের জন্য হাজির হল আমাদের ঐক্যমত জানাতে – পৃথিবীতে আজকের মত দীর্ঘ দুপুর এর আগে কখনও আসেনি। এমন এক দুপুরে আমরা দেখতে পেলাম আবু রায়হান