দ্য ফিউচার – পরাবাস্তব হয়ে ওঠার ক্রমধারা

চিলের সিনেমা দ্য ফিউচার মানে আসলে অতীত।

বাবা-মা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে গাড়িতে থাকা জিনিসপত্র উদ্ধার করতে যায় সহোদর বিয়াংকা আর টোমাস। পুলিশের কাছে অবাক হয়ে বিয়াংকা প্রশ্ন করে, ‘দুর্ঘটনার আগে যে গাড়িটা হলুদ ছিল, সেটা এখন কীভাবে ফ্যাকাশে হয়ে গেল?’

শুরু হয় দুই ভাই-বোনের একলা জীবন। ঘটনাক্রমে বিয়াংকা জড়িয়ে যায় একটা সম্ভাব্য অপরাধের সাথে, তার জীবনে আসে এক অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ বডিবিল্ডার যে যৌবনে ছিল বিখ্যাত নায়ক, এ বৃদ্ধটি বদলে দিতে থাকে তার জীবন।

বিয়াংকার কাছে যৌনতার বিশেষ কোন গুরুত্ব ছিলনা, যেন তা বেঁচে থাকার মতই ক্লান্তিকর প্রাত্যহিকতা। কিন্তু তাকে এক প্রস্টিটিউটের চেয়ে সামান্য কিছু বেশি মনে করা বৃদ্ধ মাচিস্তের মধ্যে এমন কী সে খুঁজে পায়? এই আকর্ষণের উৎস কী?

সিনেমাটি এইসমস্ত ঘটনাক্রম সাজিয়ে তোলে কবিতার মত করেই।

দ্য ফিউচার মুভি রিভিউ রবের্তো বোলানিও

ছবির দৃশ্যায়ন কিংবা ডিটেলিং এক কথায় খুব ভাল। যেহেতু সাধারণ একটা দৃশ্য যদি মনযোগ দিয়ে দেখা হয় তা বাস্তব থেকে পরাবাস্তব হয়ে উঠতে পারে।

যেমন ভ্যান গখের গমক্ষেতে কাক। বিখ্যাত এ ছবির সাধারণ দৃশ্যটিতে রঙের এমন ব্যবহার আছে যে বেশিক্ষণ যদি এর দিকে আপনি তাকিয়ে থাকেন, ঐ হলদে গমক্ষেতে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারবেন কাকতাড়ুয়ার বেশে।

আলোচ্য সিনেমায় চমৎকার দৃশ্যায়নের পাশাপাশি যোগ হয়েছে এক মুহূর্তও মিস না করে যাওয়া নেপথ্য সঙ্গীত। ব্লেড রানার সূত্রে বিখ্যাত রেটগার হয়ার ছাড়া অভিনেতা-অভিনেত্রীর দল নিতান্ত অপরিচিত কিন্তু এনারা বেশ স্বাভাবিক, অভিনয় করছেন বলে মনে হয়না।

চিলের ঔপন্যাসিক রবার্তো বোলানিওর উপন্যাস আ লিটল লুম্পেন নভেলিতা (Una novelita lumpen) থেকে এ ছবিটি বানান এলিসিয়া স্কারসন। ২০১৩ সনে চিলেতে ছবিটি মুক্তি পায় এবং একই বছরের জুনে মুক্তি পায় ইউরোপ ও আমেরিকায়।

সাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্র হিসেবে দ্য ফিউচার উপভোগ্য। এর নির্মাণশৈলী একটা উপন্যাসের মতই, ধীর কিন্তু হৃদয়গ্রাহী।

বিপরীতে ছবিটির ডায়ালজিকাল পরিবেশ গতিময়। আছে সূক্ষ্য হিউমারের ব্যবস্থাও, তার একটা নমুনা এইরকম – বিয়াংকা দিনের আলো দেখে বলে, ‘অখনে রাত্তির হওনের কথা আছিল, অবশ্যই অখন রাত্তির।’ টোমাস বোনের কথায় সায় দেয়, ‘হ, অখন তো রাত্তিরই, মাইনষে বুঝেনা, হেরা ভাবে দিন।’

ছবির নাম কেন দ্য ফিউচার? গল্পটা বলা হচ্ছে বর্তমানে দাঁড়িয়ে। যে বর্তমান ছিল আজ থেকে বহু-আগের যে অতীত, তার ভবিষ্যত।

সংযুক্তি

বাংলাভাষায় রবার্তো বোলানিও প্রায় অনুপস্থিত বলতে গেলে। তবে দ্য ফিউচার যে উপন্যাস থেকে নির্মিত হয়েছে, সেটির (সামান্য স্বৈরিণী) একটি সুপাঠ্য বাংলা অনুবাদ (২০১৮) করেছেন আলীম আজিজ। অর্থাৎ যখন আমি সিনেমাটা দেখেছিলাম আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে, তখন এই বাংলা অনুবাদ ছিল ইল ফুতুরো।


[রচনাকাল – ২৩ এপ্রিল ২০১৬]

মন্তব্য জানাতে আপনার সোশাল মিডিয়া একাউন্ট অথবা ইমেল ব্যবহার করুন

error: লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন