এনামুল রেজা

বই পড়লে কি মানুষ একা হয় না দোকা হয়

এত বড় এত অসাধারণ ড্রামা সিরিজ ফ্যামিলির কাউকে নিয়ে দেখা সম্ভব না। অর্থাৎ আর রেটেড ভাল ভাল কন্টেন্ট একা দেখে আর্ট নিয়ে কম্ফোর্ট জোনে থাকা যে তরুণ, তিনি পরিবারে সিনিয়রদের চেয়ে নিজেকে আলাদা মনে করতেই পারেন।

ইমতিয়ার শামীমের আমরা হেঁটেছি যারা – তথাগত কী চায়

ক্ষয়ের গল্প অনেক রকমভাবে বলা যেতে পারে, বা তা অনেক রকমের হয়। উপন্যাসের জগতে ব্যক্তির নিজস্ব ক্ষরণের প্যারালালে সমাজের বা রাষ্ট্রের ক্ষরণ দেখাতে পারাটা এক রকমের বিশেষ ঐতিহ্য অনেক কাল আগে থেকেই। তবে আমাদের তো আধুনিকের পরের যুগ, আর আধুনিকোত্তর উপন্যাস মেলোড্রামা দূর – প্লট, এমনকি চরিত্রগুলোকেও তেমন স্কোপ দিতে

মিডনাইট ম্যাস – মাইক ফ্লানাগানের ভৌতিক পৃথিবীর ধর্মদর্শন

নেটফ্লিক্স মিনিসিরিজ মিডনাইট ম্যাস দেখলাম এক সপ্তাহ লাগাইয়া। সাত এপিসোড সাত দিন। ধর্মতত্ত্ব, নাস্তিকতা, এবসার্ডিজম, অপরাধবোধ ও অমরত্ব নিয়া মাইক ফ্লানাগানের এই মিনি সিরিজ ভালো একটা অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছে মনে হয়। মূল চরিত্রদের দুইজন এরিন আর রাইলির একটা আলাপ আছে মৃত্যুর পর কী হবে। এই আলাপে দুইজনই বলে তাদের

বিজ্ঞানও কি একটা ধর্ম

বিজ্ঞান নিয়ে একটা পপুলার অপিনিয়ন আছে দেখবেন যে, বিজ্ঞানও একটা রিলিজিয়ন। ইউরোপে গ্যালিলেও যখন বলেছিলেন “সূর্য নয়, পৃথিবীই সূর্যের চারধারে ঘোরে”, ক্যাথলিক চার্চ কিন্তু এই কারণে তারে অভিযুক্ত করেনাই যে উনি ধর্মের বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন। আমার ধারণা, গ্যালিলিওর মতাদর্শকে অর্থাৎ বিজ্ঞানকে চার্চ বরং ধরে নিয়েছিল নতুন একটা ধর্ম হিসেবে। যেই ধর্ম

পাস্তেরনাক এবং আহত অনুভূতির এক টুকরো ইতিহাস

ক্ষমতার চুড়ায় বসে কম্যুনিজম বা কম্যুনিস্টদেরও কথায় কথায় অনুভূতি আহত হত রাশায়। অনেক লেখকের রক্তের দাগ বরফের নিচে চাপা পড়ে গেছে সেই বিচিত্র বিশাল দেশে। কিন্তু মাইকেল বুলগাকোভ বা পাস্তেরনাকের মত বড় লেখকদের মৃতদেহের ভার তার কাঁধ থেকে কোন দিন নামবে না। ধরা যাক পাস্তেরনাকের ডক্টর জিভাগোর কথা। এই বইয়ে

রবোকপের চোখে আমরা যা দেখতে পাব

পপ কালচার অনেক কারণে গুরুত্ববহ। তবে এ লেখায় পপ কালচারের একটি বিশেষ দিক নিয়ে আমি আলাপ করতে চাই। তা হল আর্টে জনপ্রিয় উপাদানের ব্যবহার। এইটা করতে গিয়ে আর্টিস্ট অনেক সময় সোশাল স্যাটায়ার করতে পারেন, গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্রিটিসিজম সেরে নিতে পারেন। এমনকি আলাদা কোন ইনটেনশন না থাকা সত্ত্বেও এই ক্রিটিক বা

ইভা কাসিডির জন্য ভালবাসা

মনের আনন্দে গান গাইত সেই মেয়ে। অল্প লোকে শুনত। কিন্নরীদের মত কন্ঠ। গান ছাড়া আর কিছু করতে তার ভাল লাগতনা। অল্প লোকে শুনত। ছোট কাফে। প্রতি সন্ধ্যায় জমে যেত আসর। এক সময় ছোট্ট শহরের সব কাফেতেই কোন না কোন সন্ধ্যায় দেখা মিলত তার। কনসার্টে, কার্নিভালেও। শীতের বাতাসে, গ্রীস্মের হাওয়ায়, বসন্তে

ভাসা ভাষায় কয়েক ছত্র ডিকেন্স দেবেশ সেলিম

গল্পবলিয়ে সেলিম মোর্শেদ সেলিম মোর্শেদের লেখালেখির সঙ্গে আমার পরিচয় বছর দুয়েক আগে। তিনি লিখছেন অনেকদিন ধরেই, আমি পড়ছিও অনেক দিন ধরেই। তবু আমাদের যোগাযোগ হতে এত এত দেরি হবার নিশ্চয় কারণ ছিল। বইমেলায় উলুখড়ের স্টল থেকে তার শ্রেষ্ঠগল্প কিনেছিলাম। কাটা সাপের মুণ্ডুর মত বইটা শেলফে ঘুমল কিছুদিন। এরপর হুট করেই

আরিমাতানোর ক্রোধ ও সন্তাপ

নিয়ন্ত্রণ আমি করতে পেরেছিলাম অনেকটুকুই, যা পারিনি সেটাই কফিন, সেটাই আমার সায়ানাইড ফুল। আরিমাতানো তুলনায় যাবনা। তার প্রয়োজনও নেই। কিন্তু বইয়ের তাকে যতবার আরিমাতানোকে দেখতাম, বারবার আমার মনে হত হুয়ান রুলফোর পেদ্রো পারামোর কথা। পারামো তার বাবার খোঁজে কোমালা নামের এক অদ্ভুতুড়ে শহরে গিয়ে থামে। মায়ের মৃত্যুশয্যা থেকে পারামোর যাত্রা

error: লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন