সেরা তিন দার্শনিক কৌতুক

মন খারাপ থাকলে মাঝেমধ্যে বৈদেশী কৌতুক পড়তাম আমি। কোন কোনটা এতই ভাল হত যে পাঠান্তে পরপর সাতদিন হাসি আসত। এক পর্যায়ে হাসি থামাতে লোকাল বাসে চড়তাম আমি, অফিসে লেট করে যেতাম কিংবা দৈনিক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার দিকে চেয়ে থাকতাম হয় সাড়ে উনিশ মিনিট। ওসবের মধ্যে সেরা কৌতুকগুলো নিজের ভাষায় রূপান্তর না করে থাকাটা কেমন ব্যাপার? ধরুন, রেলের টিকেট কাটবেন ঈদে, অর্ধেক দিন দাঁড়িয়ে আর দুজনের পর আপনার সিরিয়াল, ঠিক তখনই কঠিন ধরণের নিম্নচাপ আসলো, না মুতলে যেন আপনার ব্লাডার ফেটে যাবে।

ক্রিটিকালি বাঁদর

এক লোক মদের দোকানে এসেছে। সঙ্গে তার পোষা বাঁদর।

বারটেন্ডারকে হুইস্কি অন দ্যা রকস অর্ডার করে সে কাঁধ থেকে বাঁদরটাকে নামিয়ে দিল।

লোকটা মদ খায়। বাঁদর সব খায়। তছনছ করে।

কিছুক্ষণ পর বারটেন্ডার এসে বললো, ‘ঐ মিয়া কী বান্দর আনছেন, আমার দোকান সাফা কইরা দিল। ঐ দেখেন ঐ দেখেন, হালায় করলো কী, বিলিয়ার্ড বোর্ডে উইঠা খারাইছে, কিউ বলটা পর্যন্ত গিলা ফালাইলো!’

লোকটা আমুদে কণ্ঠে বারটেন্ডারকে আশ্বাস দেবার সুরে বললো, ‘ডোন্ট ওরি ব্রো, চিল, বান্দরে যা যা খাইছে, আমি পে করে দেব। দিস ন্যাসটি ক্রিয়েচার আমার বান্দর, সামনে যা পায় তাই খায়।’

ভদ্রলোকের এক জবান। বার থেকে বের হওয়ার আগে লোকটা মদের বিল আর বাঁদর যা যা খেয়েছে, সব পে করে বেরিয়ে গেল। বাঁদরটাও তার কাঁধে চড়ে বসলো যথারীতি।

এক মাস পরের পরের ঘটনা।

ঐ একই বারে আবার এলো লোকটা। হুইস্কি অন্য দ্যা রকস অর্ডার করলো।

সঙ্গে সেই পোষা বাঁদর, এবারও ভিতরে ঢুকেই সে এক টেবিলের দিকে লাফ মারলো।

টেবিলে ডিশভর্তি লাল চেরি। বাঁদর একটা চেরি নিয়ে নিজের পিছনে ঢুকালো প্রথমে, তারপর সেটা বের করে মুখে পুরলো।

এই দৃশ্য দেখে বিরক্ত বারটেন্ডার লোকটাকে বললো, ‘ঐ মিয়া, এইডা কী কাম করলো আপনার বান্দরে? ছিঃ ছিঃ ছিঃ।’

লোকটা সেই আগের আমুদে কণ্ঠে জবাব দিল, ‘দিস ন্যাসটি বাস্টার্ডস, আমার বান্দর, হালায় সেই যে আপনার কিউ বলটা খাইলো, এরপর যাই খাইতে যায় আগে পাছায় ঢুকায়া টেস্ট করে ঠিকঠাক বাইরাইবো কিনা।’

এক মোরাল ড্রাইভারের লটারি বিজয়

দারুণ গাড়ি চালাচ্ছিল লোকটা। একটা ঝকঝকে টয়োটা প্রিমিও। এক ট্রাফিক সার্জেন্ট সিগনাল দিয়ে তার গাড়ি থামালো।

‘সালাম ভাইয়ে, আপনের তো পোয়া বারো। নামেন দেখি।’

লোকটা স্বভাবতই ভয় পেয়ে গেল। পুলিশ এমন সালাম কেন দেবে? টয়োটা থেকে নেমে সে জানতে চাইলো, ‘কী হইছে স্যার?’

পুলিশ অফিসার হেসে তার কাঁধে হাত রাখলো। একটা পিংক কালারের স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে বললো, ‘বিশ হাজার টেকা লটারিতে জিতলা মিয়া। ট্রাফিক পুলিশ সপ্তা চলতাসে। তুমি আজকের পয়লা নম্বর লোক যে সিটবেল্ট বাইন্ধা গাড়ি চালাইছো। তা এই টাকা দিয়া করবা কী?’

‘স্যার, এই টাকা দিয়া আমি ড্রাইভিং ইশকুলে যামু। লাইসেন্স নাই আমার, লাইসেন্স লমু।’

এমন সময় পাশ থেকে লোকটার বউ বিরক্ত কণ্ঠে বললো, ‘স্যার, অর কথায় বিশ্বাস যাইয়েন না। বেশি মদ যেদিন খায়, ওইদিন খুব বুদ্ধি কইরা কথা কয়।’

বউয়ের কথা শেষ হতে না হতেই গাড়িটার ব্যাকসিটে কম্বল মুড়ি দিয়ে একজন লুকিয়ে ছিল। ভীত মুখে সে বেরিয়ে এলো, ‘ জানতাম, এই শালার চুরির গাড়িতে বেশিদূর যাইতে পারুম না।’

শেষে গাড়ির ব্যাক ডালা থেকে কেউ ধাম ধাম শব্দ করলো কয়েকবার। চেঁচিয়ে বললো, ‘ঐ মিয়া বর্ডার কি পার হইছি আমরা?’

বারো ইঞ্চি পিয়ানিস্ট ও ফারাও সম্রাট

আব্দুল মালেক শিকাগোয় গেছে।

এক বারে ঢুকে সে দেখলো, বারো ইঞ্চি সাইজের এক পিয়ানিস্ট ছোট্ট এক পিয়ানো বাজাচ্ছে কাউন্টারের উপর বসে। শপিনের নকটার্ন, চারদিকে বিষণ্ণতা।

সে অবাক হয়ে গেল। কাউন্টারে দাঁড়ানো বারটেন্ডারকে সে প্রশ্ন করলো, ‘ব্রো, এই আজব জিনিস তুমি কই পাইলা?’

বারটেন্ডার বললো, ‘আমার কাছে ফারাও আমলের এক বোতল মদ আছে, ঐটা দুই হাতে ধরে যা উইশ করবে তুমি, পূরণ হবে।’

‘বলো কী? উইশ কে পূরণ করবে?’

‘এক ফারাও সম্রাট। ফারাওরা তো মৃত্যুর পরেও ক্ষমতাবান আর ধনী থাকে, তুমি জানোনা?’

আব্দুল মালেক মুসা নবীর আমলে ফেরাউনের অত্যাচারের কাহিনী শুনেছে অনেক বাংলাদেশে যখন ছিল। ফেরাউনরা ইচ্ছা পূরণ করে এটা আসলেই সে জানতোনা। তবু একটা ভাব নিয়ে বললো, ‘জানিনা আবার? তা আমারে দিবা নাকি বোতলটা একবার ব্রো? লাক টেস্ট করতাম।’

বারটেন্ডার সানন্দে রাজি হল।

‘আরে দেবনা কেন? নাও। আমার পরদাদারা তো মিসিসিপি অঞ্চলের জমিদার ছিল বুঝলে? মানুষের ইচ্ছে পূরণে ফারাওদের চেয়ে আমরাও কম ছিলাম না।’

সো, কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন মদের বোতল হাতে আব্দুল মালেক উইশ করলো ইংরেজীতে। আমেরিকা দেশ। ইংরেজী বললে ফারাও সম্রাট বেশি বুঝবে, সিনেমায় সে দেখেছে। চোখ বন্ধ করে সে বললো, ‘গ্রেট ফারাও সম্রাট, গিভ মি বিলিওন বিলিওন বাকস।’

এরপর চোখ খুলে আব্দুল মালেক টের পেল বাইরে থেকে কেমন বিচিত্র শব্দ আসছে। বারটেন্ডার তাকে বললো, ‘এইটা কী চাইলে তুমি? বাইরে গিয়ে দেখো। ইচ্ছে তোমার পূরণ হয়েছে।’

আব্দুল মালেক রাস্তায় নেমে দেখলো পুরো শিকাগো শহরের রাস্তাঘাট ভরে আছে নানা রঙের হাসে। কোটি কোটি ডাকস। ভয় পেয়ে সে আবার ছুটে গেল বারের ভিতরে।

‘ঐ মিয়া, চাইলাম বাকস। রাস্তা ভরা তো দেখি ডাকস। এর মানে কী?’

বারটেন্ডার হতাশ কন্ঠে বললো, ‘তুমি কী ভেবেছিলে? আমি এক ফুট মানে বারো ইঞ্চি সাইজের পিয়ানিস্ট চেয়েছিলাম? এই শালার ফারাও সম্রাট বুড়া হয়েছে, কানে কম শোনে।’

2 thoughts on “সেরা তিন দার্শনিক কৌতুক

  1. Jokes gulo oshadharon. Ami, jil and amar choto bon still haschi. Ghumer moddheo mone porle hese dite pari.

মন্তব্য জানাতে আপনার সোশাল মিডিয়া একাউন্ট অথবা ইমেল ব্যবহার করুন

error: লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন