মেয়েরা বহু-বিবাহ করলে যা হতে পারে

And he was content to let his polyandrous wives live with their first husbands, so he never bore the responsibility of providing for them, financially or emotionally, on a day-to-day basis.

 In Sacred Loneliness: The Plural Wives of Joseph Smith

ইসলাম ধর্মে চার বিবি জায়েজের কথা আমি শুধু শুনেছি বা পড়েছি। চার বিবি আছে এমন লোকের সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নাই।

তবে এক পুরুষের যে অধিক বিয়ে, এ বিষয়টা ছোট থেকেই আমাকে অবাক করত। একের অধিক বউ দিয়ে কোন লোক করবেটা কী? বুঝ হবার পর প্রশ্নটা তার গুরুত্ব হারিয়েছে যদিও।

দুই বউ আছে এমন পুরুষ তো অনেকই দেখতাম।

যখনই এমন কোন বাসায় যেতাম, যে বাড়িতে ছোট বউ বড় বউ আছে গৃহকর্তার, সেই বাড়ির দাওয়ায় বসে আমার শিশুমন ভাবত যে এমন কোন মেয়ে কেন নাই যার একই সঙ্গে দুই জামাই?

এক সঙ্গে তিন চারটা ছেলেকে নাকে দড়ি বেঁধে ঘুরাচ্ছে, এমন অনেক মেয়েকে স্কুল জীবনে দেখেছি। কিন্তু এও দেখেছি, বিয়ের পর কেমন শান্ত শিষ্ট বউটি হয়ে উঠত তারা।

কোন কোন বান্ধবিকে দেখতাম সাহসী। অল্প বয়সে বিয়ে করেছে। জামাই সুবিধার না। বাক্স-পেটরা গুটিয়ে ঠিক বাপের বাড়ি চলে এসেছে। বছর না ঘুরতেই ডিভোর্স।

আবার বছর না ঘুরতেই তাদের দ্বিতীয় বিয়ে।

কিন্তু প্রশ্নটা মাথা থেকে কখনওই যেত না। এক মেয়ের কেন একসঙ্গে দুটি জামাই থাকতে পারেনা?

ধর্মে নিষেধ আছে। প্রায় সব ধর্মেই।

সনাতন ধর্মেও সম্ভবত বহুপতির বিধান সাধারণ নারীর জন্য না। একজন পুরুষের সঙ্গেই এক নারীর সাত জন্মের গাঁটছড়া।

অথচ দ্রৌপদীকে দেখতাম। পাঁচ পাণ্ডবের একটি মাত্র বউ।

মহাভারত কল্পকাহিনী। কিন্তু প্রাচীন ভারতে এমন কালচারের অস্তিত্ব ছিল। নইলে শূন্য থেকে উদাহরণ তৈরি হবেনা। সেটা নিয়ে পরে আলাপ করছি।

মেয়েদের বহুবিবাহে আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থায় সামাজিক জটিলতা আছে। প্রধানতম জটিলতা এই যে, নারীকে সন্তান জন্ম দিতে হয়।

এখন কয়েকজন জামাইঅলা নারীর যে সন্তান, সেই সন্তানের বাপ আসলে কে? ঐ সন্তানের সম্পত্তির অধিকার নির্ধারিত হবে কেমনে? বায়োলজিকালিও দুই বাপ তো হতে পারেনা একটি শিশুর।

এ ছাড়া একজন পুরুষ বা নারীর সেক্সুয়াল মনস্তত্ব এ ধরণের ব্যাপার কিভাবে নেয়?

এটা একটু খুঁটিয়ে দেখা যেতে পারে।

বহুসঙ্গিনী গ্রহণের চল আমার জানামতে গুহাযুগ থেকে চলে আসছে। অর্থাৎ ক্ষমতার ক্ষমতা।

যে পুরুষ ভাল শিকার করে, কন্টেন্ডার অন্য পুরুষদের বাহুবলে হারাতে পারে, ট্রাইবের সুন্দরী মেয়েরা তার।

এমনকি নারীরা যখন শিকারে যাওয়া বন্ধ করেনাই, তখনও পুরুষের তুলনায় শারিরীক শক্তিতে তারা কম ছিল। শক্তিমান পুরুষের ছাউনীর নিচে নিজেদের তারা নিরাপদ মনে করত।

সভ্যতার গঠনে ধর্মের অবদান আছে। পৃথিবীর সকল প্রধান ধর্মগুলো এসেছে পুরুষের মাধ্যমে। পুরুষ বহুবিবাহ করতে পারবে, এই আইন সে নিজেই লিখেছে।

তো, হাজার বছরের ধারাবাহিকতা সেক্স বিষয়ে আমাদের পার্সপেক্টিভ এভাবেই নির্মাণ করেছে। পুরুষ নিজে এক সঙ্গে কয়েকটা প্রেম করলেও বা বিয়ে, তার সঙ্গে সম্পর্কে থাকা মেয়েদের বিছানায় অন্য কোন পুরুষকে তারা সহ্য করতে পারেনা।

অর্থাৎ নারী হল পজেশন। এটা পুরুষের ডিএনএ’তেই ইনজেক্ট হয়ে গেছে। পুরুষ তার নারীকে নিজের প্রাইজ হিসেবে দেখে। আর কাউকে দিতে চায়না, অথচ সে অন্যের প্রাইজে হাত লাগাতে ইচ্ছুক। এতে সে আনন্দ পায়।

এদিক দিয়ে নারীদের মনে গঠন আলাদা। যেহেতু তারা সন্তান উৎপাদন করতে চায়, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই মূলত পুরুষের এই পজেশনে তারা নিজেদের মানিয়ে নিয়ে এসেছে।

আধুনিক যুগের স্বাবলম্বী নারীও মানসিক গঠনে খুব একটা আলাদা নয়। এদের মাঝে বহুগামী যারা, তারা বহু পুরুষকে গ্রহণ করলেও সন্তানের আকাংখ্যা আসা মাত্রই একজন পুরুষের মধ্যে ভরসা খোঁজেন।

সিঙ্গেল মাদারের সংখ্যা পশ্চিমা দেশগুলোতে বাড়ছে। কিন্তু স্বেচ্ছায় সিঙ্গেল মাদার হতে চান, এমন নারী দুর্লভ।

একগামী নারী-পুরুষ নিয়ে যেহেতু এই রচনা নয়, তাদের প্রসঙ্গে কিছু লিখছিনা। তবে ছোট্ট একটা বিষয় বলা যেতে পারে।

আমার মনে হয় যে একগামী মনস্তত্ব সম্ভবত মানব সভ্যতার একটা ধারাবাহিকতা ও বড় অর্জন, এটি সমাজের ও প্রকৃতির বিশৃংখলা বিরোধী স্ট্যান্ডপয়েন্ট। কেন, তা নিয়ে পরে কখনও আলাপ করা যাবে।

এবার আমরা মহাভারতে ফিরতে পারি।

ভারতের হিমাচল প্রদেশের কিন্নরে এখনও এক নারীর কয়েকজন পতি গ্রহণ করার চল আছে। সেখানে যারা এই ব্যাপারটা চর্চা করে, তাদের বিশ্বাস তারা পাণ্ডবদের উত্তরাধিকার।

মহাভারতের বনপর্বে কিন্নরের পার্বত্য অঞ্চলে পাণ্ডবদের নির্বাসনের ঘটনা পাওয়া যায়। অবশ্য ঐতিহাসিভাবে বিতর্ক আছে যে কিন্নরের জনগণ পাণ্ডবদের বহু আগে থেকেই মেয়েদের বহুবিবাহ চর্চা করত।

এর পেছনেও আছে কিন্নর অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, সামাজিক, মানসিক ও সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারার বিবিধ দিক।

পাঁচজন পুরুষ একজন নারীকে বিয়ে বিয়ে করলে এক বছরে একজন সন্তান জন্ম নেবে। কিন্তু পাঁচজন পুরুষ পাঁচজন নারীকে বিয়ে করলে বছরে জন্ম নিতে পারে পাঁচটি শিশু। এক্ষেত্রে প্রথমটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্চর্য এক ব্যবস্থা।

কিন্নরের কথা আগেই বলেছি। তিব্বত ও চীনের কিছু কিছু অংশেও এই কালচার চালু আছে।

এখন নারীদের বহুবিবাহের জন্য যে এইসকল সমাজ ব্যবস্থা নারীপ্রধান তাও নয়। পাঁচ ভাই একজন স্ত্রী গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সামান্য সম্পদ অনেক ভাগ হওয়া থেকে রক্ষা করে।

সন্তান তার মায়ের পাঁচ পতিকেই বাপ হিসেবে জানে এবং সম্পদের ভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েনা। চক্রাকারে ব্যাপারটা চলতে থাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

পৃথিবীর বহু দেশে, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইয়োরোপের অনেক যায়গায় একজন পুরুষ বা নারী কেউই একসঙ্গে একের অধিক সঙ্গীর সঙ্গে বিয়ের চুক্তি করতে পারেনা। আইনত তা নিষিদ্ধ।

অর্থাৎ গ্র্যান্ড ও ম্যাসিভ যে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা, সেখানে বহুবিবাহ ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। এমনকি এই চর্চার সবচেয়ে বড় এডভোকেট মুসলিমরাও বিষয়টাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন আজকাল।

তবে একটু বাঁকা হাসি দিয়ে বলি, পুরুষের বহুবিবাহ যেখানে যুগে যুগে জনসংখ্যা বাড়িয়েছে ও বিভেদ সৃষ্টি করেছে, অধিক হারে মেয়েদের বহুবিবাহের চর্চা হাজার বছর ধরে হলে সম্ভবত পৃথিবীর আরেক রকম চেহারা দাঁড়াত।

বেগম রোকেয়ার সুলতানার স্বপ্ন আরেকটু এগিয়ে নিয়ে আপনি বিষয়টা কল্পনা করে দেখতে পারেন।


পলিয়ান্ড্রি এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড – লরা বেনেডিক্ট, ইউনিভার্সিটি অব নেভাদা আন্ডারগ্র্যাড রিসার্চ

এলিস ড্রেজার অন পলিয়ান্ড্রি- দ্যা আটলান্টিক

স্পার্টাকাস এডুকেশনাল

মহাভারত – বনপর্ব – রাজশেখর বসু

মন্তব্য জানাতে আপনার সোশাল মিডিয়া একাউন্ট অথবা ইমেল ব্যবহার করুন

error: লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন